You’re now subscribed to our newsletter. Stay tuned for the latest news and updates!
সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী ও বিদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির সরকার। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কেউ যদি সৌদি আরবে অবস্থান করেন, তাহলে তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতি নিয়ে নতুন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কিওয়া (Qiwa) প্ল্যাটফর্ম। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত নিয়োগকর্তারা তাদের কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন অথবা প্রয়োজন হলে তাদের সেবা অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সুযোগ পাবেন। এই সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী সময়ে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরব বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রিয়েল এস্টেট খাতে এক বড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী ও বিদেশি নাগরিকরা এখন দেশটির নির্দিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জমি ও স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারবেন। ২৩ জুন বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো সৌদির বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও উন্মুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক এবং আকর্ষণীয় করে তোলা।

অবৈধ বসবাস ও আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে সৌদি আরব। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত আইন ভঙ্গের অভিযোগে ৭ হাজার ৭৬০ জন প্রবাসীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২৮ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে পরিচালিত সমন্বিত নিরাপত্তা অভিযানে এসব প্রবাসীকে আটক করা হয়। অভিযানের পর তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৬৯০ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সৌদি আরবের শ্রমবাজারকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বৈধ আকামা থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি পুলিশি হয়রানি, আটক এবং জেলহাজতে পাঠানোর অভিযোগ করছেন। সম্প্রতি দেশে ফেরত আসা এক প্রবাসী কর্মী ঢাকার বিমানবন্দরে জানান, আকামা থাকার পরও কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার রাস্তায় চলাচলের সময়ও পুলিশ কাগজপত্র যাচাইয়ের পর সন্দেহের ভিত্তিতে অনেককে নিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাউকে কেউ এক সপ্তাহ, কাউকে আবার ১৫ দিন বা তারও বেশি সময় ধরে সফর জেলে রাখা হচ্ছে। অনেকে মাসের পর মাস আটক অবস্থায় রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

দেশজুড়ে শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে সৌদি আরব। আর সেই অভিযানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মাত্র তিন মাসেই বাতিল করা হয়েছে ৭ হাজার ২০০টিরও বেশি কর্মভিসা। একইসঙ্গে শত শত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
