You’re now subscribed to our newsletter. Stay tuned for the latest news and updates!
একটি পাসপোর্টের জন্য অপেক্ষা কখনও তিন মাস, কখনও ছয় মাস, আবার কারও ক্ষেত্রে তারও বেশি সময়। মালয়েশিয়ায় থাকা শত শত বাংলাদেশি প্রবাসীর জন্য এই অপেক্ষা এখন শুধু প্রশাসনিক জটিলতা নয়, বরং চাকরি, বৈধতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, নিরাপদ অভিবাসন এবং বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার নিয়ে আলোচনা করতে সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় এসেছিলেন ব্রিটিশ লেবার অ্যাক্টিভিস্ট অ্যান্ডি হল। তবে সরকারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর প্রকাশ্যে হতাশা জানিয়েছেন তিনি।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের পরিচয় একসময় ছিল মূলত শ্রমনির্ভর কর্মী হিসেবে। কিন্তু সময় বদলেছে, আর সেই সঙ্গে বদলেছে বাংলাদেশিদের অবস্থানও। এখন শুধু নির্মাণশিল্প বা কারখানায় নয়, তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিনটেক, ডাটা অ্যানালিটিক্স, শিক্ষা এবং উদ্যোক্তা খাতেও নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন বাংলাদেশিরা। ফলে মালয়েশিয়ার করপোরেট অঙ্গনেও বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের প্রতি আস্থা বাড়ছে দিন দিন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল শ্রম অভিবাসন। আলোচনায় উঠে এসেছে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্তকরণ, অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক শ্রমিকদের প্রত্যাবাসনের বিষয়।

মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত হয়েছে। শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। শুধু নতুন কর্মী নিয়োগই নয়, বর্তমানে দেশটিতে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়েও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আশ্বাস দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে হাজারো বাংলাদেশি কর্মীর জীবন ও ভবিষ্যৎ নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে রয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। ফলে উৎপাদন, নির্মাণ, কৃষি এবং সেবা খাতে তৈরি হয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। সরকার শুরু থেকেই বলছে, দেশীয় শ্রমিকদের এসব খাতে সম্পৃক্ত করে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমানোই তাদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। কারণ মালয়েশিয়ার স্থানীয় শ্রমিকরা সাধারণত ভারী কাজ, নির্মাণ কাজ কিংবা রোদে দীর্ঘ সময় ধরে কষ্টসাধ্য পরিশ্রমের কাজ করতে আগ্রহী নয়। ফলে এসব খাতে এখনো বিদেশি শ্রমিকই মূল ভরসা হিসেবে টিকে আছে।

চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মোট ৩০ হাজার ৮০১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। ৯ জুন এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, আটককৃতদের মধ্যে ২ হাজার ৩২৪ জন তাদের ভিসা বা পাসের অপব্যবহার করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, তারা যেই উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন, বাস্তবে তার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। দেশটিতে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশির বসবাস। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে গত কয়েক বছর ধরে কর্মী নিয়োগ ও বৈধকরণ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় সংকটে পড়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী।

দেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে আবারও আলোচনায় অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় এবং সিন্ডিকেটের অভিযোগ। দেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে আবারও আলোচনায় অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় এবং সিন্ডিকেটের অভিযোগ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও বলছে, বর্তমান ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে নিরাপদ শ্রম অভিবাসন সম্ভব নয়। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রিক্রুটিং এজেন্সি, শ্রমিক প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ এবং অভিবাসন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ। আলোচনায় উঠে আসে, সীমিত সংখ্যক এজেন্সিকে সুযোগ দেওয়ার কারণে নিয়োগ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
