
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শীঘ্রই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর এই ঘোষণাকে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ‘নতুন সম্ভাবনার দ্বার’ হিসেবে দেখছে। তবে এবার দেশটির শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ আরও পাঁচটি দেশের নিয়োগ সংস্থার জন্য কঠোর ১০টি শর্ত নির্ধারণ করেছে মালয়েশিয়া।
মালয়েশিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান এবং মায়ানমারের অনুমোদিত নিয়োগ সংস্থাগুলোকে নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। এ শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—কমপক্ষে পাঁচ বছরের কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা, গত পাঁচ বছরে অন্তত তিন হাজার কর্মী বিদেশে পাঠানোর রেকর্ড, তিনটি ভিন্ন গন্তব্য দেশে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা, বৈধ লাইসেন্স, ভালো আচরণের সনদ এবং জালিয়াতি বা মানবপাচারের মতো অপরাধে জড়িত না থাকার প্রমাণ।
এছাড়া প্রতিটি এজেন্সির নিজস্ব প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন কেন্দ্র থাকতে হবে, থাকতে হবে পাঁচটি আন্তর্জাতিক নিয়োগকর্তার কাছ থেকে সন্তোষজনক কর্মক্ষমতার সনদ, ১০,০০০ বর্গফুট আয়তনের স্থায়ী অফিস এবং পূর্ববর্তী নিয়োগ কার্যক্রমে আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রমাণপত্র।
চলতি বছরের মে মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া যৌথ কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠকে এই মানদণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের পর মালয়েশিয়া প্রতিশ্রুতি দেয় যে, বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বৈধ ও যোগ্য এজেন্সিগুলোকে একই মানদণ্ডে অনুমোদন দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত শর্ত পূরণে সক্ষম বৈধ লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিতে হবে। এরপর মন্ত্রণালয় যোগ্য এজেন্সিগুলোর তালিকা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠাবে।
উল্লেখ্য, ১ জুন ২০২৪ সালে মালয়েশিয়া তাদের শ্রমবাজার বন্ধের ঘোষণা দেয়, যার ফলে প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি কর্মী ভিসা থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে যেতে পারেননি। এবার নতুন নীতিমালার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হলে, বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মসংস্থানে এটি একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
