ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা! মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের করুণ বাস্তবতা

মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের পদচারণা আজ সাধারণ দৃশ্য। কিন্তু সেই পথের পেছনে লুকিয়ে আছে এক নীরব বেদনা—‘ফ্রি ভিসা’ নামের প্রতারণা।

তৃণমূল অভিবাসী সংগঠন ওকাপের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, নির্দিষ্ট চাকরির নিশ্চয়তা ছাড়াই হাজার হাজার মানুষ প্রতি বছর যাচ্ছেন কুয়েত, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে। সরকার নির্ধারিত ১ লাখ ১৬ হাজার টাকার খরচের জায়গায় গড়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা গুনতে হচ্ছে তাঁদের। অথচ সেখানে পৌঁছে ৪৩ শতাংশ কর্মী কাজই পাননি।

গবেষণাটি করা হয় দেশের আটটি জেলায়—বাগেরহাট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঢাকা, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, সাতক্ষীরা ও সুনামগঞ্জে—২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত। জরিপে অংশ নেওয়া কর্মীদের মধ্যে ৭২ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে ঋণ নিয়েছেন, কেউ জমি বন্ধক রেখেছেন, কেউ বিক্রিও করেছেন। কিন্তু কাজ না পেয়ে ফিরে এলে, সেই জমি আর ফেরত পাননি অনেকেই।

জরিপে আরও দেখা গেছে—যাঁরা তথাকথিত ফ্রি ভিসায় গেছেন, তাঁদের ৫৪ শতাংশ গেছেন অবৈধ দালাল চক্রের মাধ্যমে। মাত্র ৭ শতাংশ বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে। অথচ আইএলও কনভেনশন স্পষ্টভাবে বলছে—চুক্তি ছাড়া কোনো কর্মী পাঠানোই অবৈধ।

বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আশরাফ হোসেন বলেন, “ফ্রি ভিসা বলে কিছু নেই। দক্ষ কর্মী পাঠানোর দিকেই যেতে হবে, নইলে ক্ষতি বাড়বে।”

প্রবাসীকল্যাণ সচিব নেয়ামত উল্ল্যা ভূঁইয়া বলেন, “অবৈধ অভিবাসন শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, এটি অর্থনীতির জন্যও ভয়াবহ।”

ওকাপের চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম বলেন, “সবচেয়ে বড় সমস্যা—দালাল চক্রের শাস্তির অভাব। আইন আছে, প্রয়োগ নেই।”

একটি বিষয় পরিষ্কার—প্রবাসী আয়ের পেছনে যে ঘাম ঝরে, তা যেন প্রতারণায় না মিশে যায়। বৈধ পথে, দক্ষ কর্মী হিসেবে বিদেশে যাওয়াই হতে পারে নিরাপদ ভবিষ্যতের একমাত্র চাবিকাঠি।

0
Show Comments (0) Hide Comments (0)
Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Posts: